কবি ফরিদ আহমদ দুলালএর রচিত "অসহায় বাংলাদেশ" -কবিতাটির বিশ্লেষণ




 কবি ফরিদ আহমদ দুলালএর রচিত -

"অসহায় বাংলাদেশ" - কবিতাটির বিশ্লেষণঃ-

দারুণ শক্তিশালী স্পষ্ট রাজনৈতিকসামাজিক কবিতা  । ফরিদ আহমেদ দুলাল আমার প্রিয় কবি ।
সাহিত্য চার্চায় ময়মনসিংহ এক শহরেই আমাদের বসবাস ছিল বহু বছর । তাঁর পরামর্শ এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কবিতা বিশ্লেষণ করা যদিও আমার জন্য দুরুহ কাজ।
 
"অসহায় বাংলাদেশ" কবিতার বিষয়বস্তুঃ  
 
সমসাময়িক সামাজিকনৈতিক সংকট ,দুর্নীতি, সহিংসতা, মব-সংস্কৃতি, প্রকৃতি কৃষির ধ্বংস ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি। একে বলা যায়: দেশপ্রেম + সামাজিক প্রতিবাদ + নৈতিক ক্ষোভ।
 
এটি রোমান্টিক দেশপ্রেম নয়, বরং বেদনাবিদ্ধ, ক্ষুব্ধ প্রশ্নবিদ্ধ দেশপ্রেম।
 
গঠন রূপঃ স্তবক: মূলত ২টি দীর্ঘ স্তবক । পংক্তি: দীর্ঘ, বর্ণনামূলক। ধরণ: মুক্তছন্দ । নির্দিষ্ট মাত্রা বা ছন্দবন্ধন নেই । তবে অন্ত্যমিলের চেষ্টা আছে।  এটি সনেট / হাইকু নয়,  বরং ঘোষণাধর্মী সামাজিক কবিতা।
 
ভাষা অলঙ্কারঃ কাব্যিক কিন্তু ভারী, সংস্কৃতঘেঁষা শব্দ: *উর্বর পলল, মৃত্তিকা, অভিসম্পাত। মাঝে মাঝে সাংবাদিকঘোষণামূলক ভঙ্গি । অলঙ্কার: মানবীকরণ- মাটি কাঁদে অসহায় বাংলাদেশ। রূপক:   * বাংলাদেশ = অসহায় জন্মভূমি । অনুপ্রাসবিচিত্র বৈচিত্র্য বিভাবতী। প্রতীকবাদ**: ‘কারেন্ট জাল  = লোভী উন্নয়ন, * ‘মব = অচেতন সহিংসতা।
 
চিত্রকল্প ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতাঃ
খুব শক্তিশালী দিক। খালবিলদীঘিনদী, পুড়ে যাওয়া মাঠ।
শব্দ:  “উচ্চকিত গ্রাম, “হুলুস্থুল। স্পর্শ/তাপ: “বিষাক্ত রোদ্দুর, “অনলে
 
ভাব মনোভাবঃ কবির দৃষ্টিভঙ্গি: ক্ষুব্ধ, হতাশ, অভিযুক্ত। মুড: বিষণ্নতা, ক্ষোভ,শোক + সতর্কবার্তা
 
পাঠকের মনে জাগে প্রতীক গোপন অর্থ
 
| প্রতীক                       | অর্থ                    |
| ------------------------ | ----------------------- |
| মব                            | অচেতন জনতা              |
| দুর্বৃত্ত স্বর্গের টিকিট   | ধর্ম/নৈতিকতার অপব্যবহার |
| পুড়ে যাওয়া শস্য      | ভবিষ্যৎ ধ্বংস           |
| লক্ষ শহিদের রক্ত     | ঐতিহাসিক দায়            |
 
গোপন অর্থরাষ্ট্র শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিকভাবে ব্যর্থ।
আবেগীয় প্রভাবঃ এই কবিতা পাঠককেশান্ত রাখে না, আনন্দ

দেয় না, নাড়িয়ে দেয়।
কারণ কবি পাঠককে নিরপেক্ষ থাকতে দেন নাই ।
 
মূল্যায়নঃ  সৌন্দর্য- ভাবের শক্তি খুব বেশি, চিত্রকল্প জীবন্ত
মৌলিকতা: বিষয় নতুন নয়, কিন্তু উপস্থাপনার তীব্রতা আলাদা
বার্তা: “এই দেশ শুধু সরকারের নয়আমাদেরও দায়।
 
ধ্বনি ছন্দঃ অন্ত্যমিল: আছে, কিন্তু অসম, লয়: কোথাও ভালো, কোথাও ভারী, পুনরুক্তি: “বিচিত্র শব্দ বেশি ব্যবহৃত। সংগীতধর্মিতা মাঝারি।
 
 স্বকীয়তা সৃজনশীলতাঃ চিন্তা স্বকীয়,  ভাষা কিছুটা পরিচিত ধারার,  সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান।
ভাবগভীরতা মানবিক বোধঃ খুব স্পষ্টভাবে আছে* কৃষকের বঞ্চনা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি,  শহিদের রক্তের দায় ।
ভাষার ঝুঁকি পরীক্ষামূলকতাঃ বিষয়গত ঝুঁকি আছে, ভাষাগত পরীক্ষানিরীক্ষা কম
কবির আত্মসমালোচনা আছে কি?  সরাসরি নেই, কবি নিজেকে আলাদা রেখে সমাজকে অভিযুক্ত করেছেন।
ক্লিশে বনাম নতুনঃ ক্লিশে: “লক্ষ শহিদের রক্তমাটি কাঁদে
 নতুন: মবসংস্কৃতি পরিবেশ ধ্বংসের সংযোগ
ভাষার ত্রুটি / অসমতাঃ কিছু লাইন অতিরিক্ত ঘোষণামূলক। কোথাও কবিতাপ্রবন্ধ হয়ে গেছে।
স্ট্রাকচারাল ঝুঁকিঃ  লাইন দীর্ঘ হওয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট। স্তবকভাঙা আরও ভালো হতে পারত।
আবেগের গভীরতা ভঙ্গিঃ আবেগ গভীর, কিন্তু সব জায়গায় সমান সূক্ষ্ম নয়, ক্ষোভ কখনো কাব্যিকতাকে চাপা দেয়।
মানুষধাঁচ নাকি AI–ধাঁচ? স্পষ্টভাবে মানুষধাঁচের কবিতা। কারণ: অসমতা আছে,  অতিরিক্ত আবেগ আছে
* ছন্দেভাঙন আছে,  ব্যক্তিগত ক্ষোভ দায়বোধ আছে। AI হলে এটি আরও মসৃণ নিরাপদ হতো।
 
সংক্ষিপ্ত সারমর্মঃ অসহায় বাংলাদেশ একটি সাহসী, ক্ষুব্ধ, মানবিক প্রতিবাদী কবিতা। এটি নান্দনিক সৌন্দর্যের চেয়ে নৈতিক তাগিদে শক্তিশালী।  কবিতাটি প্রশ্ন তোলেকিন্তু উত্তর আমাদের উপর ছেড়ে দেয়।
 
যৎসামান্য সমালোচনায়-
হৃদয় লোহানী
সম্পাদক
রসধ্বনি 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন

Ads

Ads